জীবন সমস্যার সমাধান

ভালবাসা আসলে কি এবং কিভাবে ভালবাসতে হয়

ভালবাসা কিছু কথা

আমি তোমাকে ভালোবাসি। জানো কি পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় মিথ্যে কথাগুলোর মধ্যে এটি একটি। কি শুনতে অবাক লাগছে? তাহলে প্রতিটি বিষয় মনোযোগ দিয়ে পড়ো এবং বাস্তবতার সাথে তুলনা করো। আশা করছি, পড়া শেষে আমার সাথে তুমিও একমত হবে।

ভালবাসা কিছু কথা

এবার আসি মূল কথায়। ভালোবাসা আসলে কি? যদিও ভালোবাসার অনেক সংজ্ঞা আছে তবে কবিদের মতে ভালোলাগাভালোবাসা এক নয়। তবুও মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ভালোলাগাই হলো ভালোবাসার পূর্বশর্ত। অর্থাৎ যাকে বা যে বিষয়টি তুমি ভালোবাসো, সেটি অবশ্যই তোমার ভালো লাগতে হবে।

ভালবাসা

যদি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মূল কথায় আসি- তাহলে আমি নিজেকে ভালোবাসি। এটিই হলো সবচেয়ে বড় সত্য। হ্যাঁ আমরা নিজেকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। যারা এখনো বুঝনি তাদের জন্য একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা সহজ করে দেই।

ভালোলাগা বনাম ভালোবাসা

ধরো, তুমি দৈনিক ৩০ জন মেয়েকে দেখো। যাদের মধ্যে ৭/৮ জনকে তোমার ভালো লাগে অর্থাৎ যেটাকে আমরা খাটি বাংলা ভাষায় ক্রাশ বলি। এই ৭/৮ জন মেয়ে তোমাকে ভালো লাগলেও, তোমার বন্ধুর চয়েসটা একটু ভিন্ন হবে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ ভালো লাগার হরমোন অক্সিটোসিন সবার ক্ষেত্রে সমান না। কারো দিপাকাকে দেখে অক্সিটোসিন বেশি ক্ষরণ হয় এবং বেশি ভালো লাগে। আবার কারো দিপীকাকে মোটেও ভালো লাগে না। কারণ দিপীকাকে দেখে, তার মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন হরমোন সাড়া দেয় নি।

তুমি একটি মেয়েকে ভালোবাসো। তার মানে এই দাড়াচ্ছে যে, তার প্রতি কেয়ার নিলে, তার সাথে কথা বললে, তার সাথে সময় পার করলে, তোমার অক্সিটোসিন হরমোন বা ভালো লাগার হরমোন বেশি সাড়া দেয়। এ কারণে তুমি ভালো অনুভব করো। মনের মধ্যে রোমান্টিকতা খেলা করে।

মোটকথা, ঐ মেয়ের অনেককিছুই, তোমার ভালো লাগে বলে, তুমি তাকে ভালবাসা বলছো। কিন্তু তুমি আসলে নিজেকেই ভালোবাসতেছো। আবার তোমার সঙ্গী, তোমাকে কেয়ার করে, কথা বলে, নিজের ভালোলাগে বলে, সে নিজেকে ভালোবাসার মাঝে তোমাকে পছন্দ করছে।

সত্যিকারের ভালবাসা

আচ্ছা বলতো, ভালোবাসাটা কখন আর থাকে না? কখন সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়? হ্যাঁ ঠিক ধরেছো, যখন তোমার সঙ্গীর কৃতকর্ম বা ব্যবহার তোমার ভালোলাগে না, ঠিক তখনি তুমি আর ভালোবোধ করো না, তার প্রতি টানও অনুভব করো না। নিজের ভালো না লাগলে জোর করেও যদি সম্পর্ক ধরে রাখো তবে সেটা ভালোবাসা নয়, সেটা করুণা, দয়া বা দায়িত্ববোধ।

সত্যিকারের ভালবাসা

ভালোবাসা শুধু বিপরীত লিঙ্গের প্রতি হয় না, এটা হতে পারে পরিবারের প্রতি, দেশের প্রতি, বন্ধুদের প্রতি। মজার বিষয় হচ্ছে, প্রতিটি সম্পর্কের মধ্যে ফিলিংস গুলো আলাদা আলাদা।

অনেকে ভাবতে পারে, আমি তোমাকে জীবনের চেয়ে ভালোবাসি, তোমার জন্য জীবন দিতে পারি। এগুলো তবে কি মিথ্যে কথা। হ্যাঁ, এগুলো মিথ্যে কথা। আবার তুমি বলতে পার যারা সত্যিই ভালোবাসার জন্য জীবন দিয়ে গেছে, তারা কি তাহলে ভালোবাসার মানুষটিকে ভালোবাসেনা?

এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, যে মানূষগুলো মানষিকভাবে কোন না কোন সমস্যায় ভুগছে, এবং যারা কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, কেবলমাত্র তারাই এ ধরনের আবেগী কাজ করে। আবেগের বশবর্তী হয়ে তারা আত্মহত্যা করে বসে।

একজন সুস্থ মানুষ কখন আত্মহত্যা করতে পারে না। আর যারা জীবনের রিস্ক নিয়ে কাউকে বা নিজের সঙ্গীর জন্য লড়াই করে, তারাও এই লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজের মনের মধ্যে ভালো লাগা অনুভব করে বলেই তারা এটা করে।

কিভাবে ভালবাসতে হয়?

যদি তুমি তোমার প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসি না বলে, এটা বলো যে, আমি নিজেকে ভালোবাসি এবং তোমার কেয়ারিং, কথা বলা, সময় কাটানো, আমার ভালোলাগে ও নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয়। তাই আমার নিজের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখতে, আমি তোমাকে সারাজীবন কাছে রাখতে চাই। তুমিও যাতে আমাকে কেয়ারিং করে নিজেকে ভালোবাসতে পারো। এই বিষয়টি আমি চাই।

সত্যের মাধ্যমে গড়ে উঠা যে কোন সম্পর্ক যুগ যুগ ধরে টিকে থাকে। তাই তোমার প্রিয় মানুষটির সামনে সবসময় সত্য তুলে ধরো। দেখবে, ভালোবাসাটা যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। ভালবাসা কিছু কথা সারাজীবন টিকে থাকবে।

সবশেষে বলতে চাই নিজের ভালোলাগা বা নিজের প্রতি ভালোবাসা কোন সীমাবদ্ধতায় রেখো না। তোমার কাজ, বন্ধু কিংবা আশেপাশের মানুষদের সাথে সুসম্পর্ক করে ভালোলাগা তৈরি করো। দেখবে, ভালোবাসার সাগরে ডুবতেছো। একটি মানুষের চরিত্রে ভালো ও খারাপ দুটো দিকই থাকে।

ভালবাসা আসলে কি?

তুমি মানূষের ভালো দিকগুলো বেশি ফোকাস করে তাকে সাহায্য সহানুভূতির মাধ্যমে নিজের প্রতি ভালোলাগা তৈরি করে নিজেকে বেশি বেশি ভালোবাসো। নিজেকে ভালোবাসা মানে অন্য কারো না কারো উপকার করা। নিজেকে বেশি বেশি ভালোবাসো, অন্যের উপকার করো আর তোমার সৃষ্টিকর্তার মন জয় করো।

আরও পড়ুন- অপমান করলে কি করতে হয় টেকনিক জেনে নিন

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!