জীবনের গল্প

আদর্শ বাসর রাত কিভাবে করবেন | The Couples

আদর্শ বাসর রাত

আদর্শ বাসর রাত: আজ আমার বাসর রাত। প্রতিটি ছেলে মেয়ে তার জীবনে এই রাতটি আশা করে। এই রাতকে ঘিরে প্রত্যেকের কিছু আলাদা আলাদা ইচ্ছা থাকে। যাই হোক, নিজের কোনো পছন্দ না থাকায় বাবা মার ইচ্ছাতেই আমার বিয়ে। সারাদিন বন্ধুদের অনেক ফাজলামো শুনে, সবার সাথে শেলফি তুলতে তুলতে অনেকটা হাফিয়ে উঠেছিলাম। বিয়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে সবাই যার যার মতো জায়গায় ফিরে যাওয়ায় এখন একটু স্বস্তি ফিরে পেলাম।

পরিচয় পর্ব নতুন বউয়ের সাথে

যাক এবার তাহলে বাসর ঘরে ঢোকার পালা। যাই দেখি, বউটা একা একা ঘরে কি করে? ওহ! আপনার সাথে তো পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়নি। এই হচ্ছে আমার ব্রাণ্ড নিউ বউ দিনা। কি লাজুক ভাবে বসে আছে দেখছেন! ইস! বাসররাতের মত এমন লাজুকভাবে যদি মেয়েরা সারাজীবন থাকত তাহলে পুরুষেরা আর বিয়ে করতে ভয় পেত না। কথাটা আস্তে বলার পরেও দিনার কানে ঠিকই গেল। আর অমনি ঠাস করে জবাব এল- আপনারা পুরুষেরা বাসররাতের মত সারাজীবন রোমান্টিক থাকলে মেয়েরা আর পরকীয়ায় জড়াত না। যাক বাবা এখানে পরকীয়া চলে এলো। বুঝেছি একটু সাবধানে কথা বলতে হবে, নইলে জবাব তীরের মত এসে বিঁধবে।

যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি কি বিছানায় বসতে পারি? কথাটা শুনে দিনা একটা অট্ট হাসি দিয়ে বলে উঠল – আমি আপনার বিয়ে করা বউ, মানে বলতে গেলে এক রকম দাসী। আপনার সব কথা আমাকে শুনতে হবে। আর অত ভদ্রতা দেখানোর কি আছে, ঘুরে ফিরে তো মেয়েদের শরীরটাই আপনাদের চাই, তাই না!

নাহ! এবার মেজাজটা আসলেই খারাপ হয়ে গেল, আমি একটু বিরক্ত সুরে বললাম- দেখেন নারী মানে আমার কাছে শুধু ভোগবিলাসের বস্তু নয় বরং সুখে-দুঃখে জীবনের সঙ্গী, একজন বেস্ট ফ্রেন্ড। সবার মত আমাকে ভাববেন না। বিশ্বাস করেন আজকে রাতে আপনার সাথে কোন শারীরিক সম্পর্ক করার চিন্তা ভাবনা নিয়ে আসিনি। শুধু মনের ভিতর জমে থাকা কিছু না বলা কথা আর বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ নিয়ে এসেছি। আপনার মনের কথাগুলো শুনতে এসেছি, আপনাকে বুঝতে এসেছি। ২৫টা বছর কুমার হয়ে কাটিয়েছি, ধৈর্য আমার আছে।

বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ

এক নাগাড়ে এতগুলো কথা শুনার পর দিনা একটু থমকে গেল। কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর বলল, আমাকে মাফ করবেন, আমার আসলে না বুঝে এতগুলো কথা আপনাকে শুনানো উচিত হয়নি। কিন্তু আপনার কথার একটি বিষয় বুঝলাম না। আপনি বন্ধুত্ব করতে চান আমার সাথে কিন্তু কেন?

আমি মৃদু হেসে শান্ত গলায় বললাম – শরৎচন্দ্রের একটি লাইন আমার খুব মন কাড়ে। বিলাসী গল্পে তিনি বলেছিলেন- স্বামী-স্ত্রী ১০০ বছর একসাথে থাকিবার পরেও একে অপরকে চিনিতে পারে না। আমি মনে করি এই চিনতে বা বুঝতে না পারার কারণ হল- স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক না থাকা। বন্ধুত্বের মধ্যে কর্তৃত্ব নেই, আছে শাসন, বারণ, ভালোবাসা, আছে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়া। তাই আমি ঠিক করেছি আপনি যতদিন না পর্যন্ত আমাকে আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড ভাববেন ততদিন আপনাকে কোন শারীরিক সম্পর্ক করতে বলবনা। আপনি কি বলেন মতামত চাই?

বাসর রাতের রোমান্টিক গল্প

দিনা থ মেরে আমার দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে। খুব ধীর কণ্ঠে আমাকে বলল- আমি রাজি আছি, তবে কিভাবে বুঝবেন আমি আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়েছি কিনা?

উত্তরে আমি বললাম- যেদিন আপনি আমায় তুই সম্বোধন করে ডাকবেন, সেদিন ভাবব আপনি আমাকে বেস্ট ফ্রেন্ড বানিয়েছেন।

দিনা এবার একটু হেসে বলল – স্বামীকে কেউ আবার তুই বলে নাকি? মানুষ কি ভাববে? জবাবে আমি বললাম- মানুষ কি ভাববে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আপনি কি ভাবছেন সেটাই আমার দেখার বিষয়। যাই হোক, অনেক বক বক করলাম, এবার আপনার পা টা মেলে দিন তো। আপনার পায়ের উপর বালিশ রেখে একটু শুব। আর আপনার কথা শুনব।

দিনা খুব খুশি হয়ে আমাকে সারারাত তার অনেক গল্প, স্বপ্ন, মনের কথা শোনায়। শুনতে শুনতে ফজরের আযান পড়ে। ফজরের আযান শুনে আমি আর দিনা ঘুমিয়ে পড়ি।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দিনা মেহেদি হাতে লাগাচ্ছে। আমাকে দেখে সে বলল – প্রিয় ভদ্র স্বামী কিছু মনে না করলে আপনাকে একটা চুমু দিতে পারি! জীবনে প্রথম কিছু চেয়েছে তাই না করলাম না। এই সুযোগে সে গুণে গুনে ৫টি চুমু দিয়েছে। আমি বললাম এতগুলো কেন?

লজ্জায় লাল হয়ে ঠোটের কোণে হাসি রেখে দিনা বলল- কপালে চুমুটি দিয়েছি আমাকে কাল রাতে সম্মান দেয়ার জন্য, চোখে চুমু দিয়েছি- আপনার ধৈর্য্যের জন্য, ঠোটে চুমু দিয়েছি আমার প্রতি আপনার ভালোবাসার জন্য, গালে চুমু দিয়েছি বন্ধুত্বের আমন্ত্রণের জন্য আর সবশেষে ঘাড়ে চুমু দিয়েছি একটি আদর্শ বাসর রাত উপহার দেয়ার জন্য।

লেখা- নির্ঝর

উপরের লেখাটি ভিডিওতে দেখতে পারেন-

আরো পড়ুন- মেয়েরা কেমন ছেলে পছন্দ করে জীবন সঙ্গীর জন্য

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!