প্রযুক্তি কথন

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স রোবট এর ভবিষ্যৎ | Artificial Intelligence

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স রোবট এর ভবিষ্যৎ কেমন হবে? কি হবে যদি কম্পিউটার বা রোবট মানুষের মত ভাবতে পারে, নিজে থেকে নতুন কিছু করতে পারে। কি হবে যদি মানুষের তৈরী রোবট মানুষের চেয়েও স্মার্ট হয়ে যায়? তবে কি রোবটও পৃথিবী রাজ করবে? আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স মানে এমন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম যেটা নিজে চিন্তা করতে পারে এবং নিজে নিজে এমন জটিল কিছু করে যেটা মানুষও পারে না।

আর এটা কোন ভবিষ্যৎবাণী নয় অলরেডি হয়ে আছে যেমনটি সোফিয়া। বেশিরভাগ মানুষই জানে না বা পরিণতি সম্পর্কে অচেতন যে কি পরিমাণ গতিতে এই আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স রোবট ডেভেলপ হচ্ছে। হয়তো আপনি ভুলে যাচ্ছেন এই আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স বা AI সব সময় ব্যবহার করছেন। Alexa, Apple এর সিরি, গুগল এসিসটেন্স ইত্যাদি সাধারণ কিছু নয়, এগুলোই AI. আপনি হয়তো জানেনই না যে এগুলো আপনাকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি?

আপনি যখন একটি ফেসবুক পেজের পোস্ট লাইক করেন – যেমন ধরেন, আপনি একটি কমেডি ভিডিওতে লাইক দেন। তখন খেয়াল করবেন ঠিক ওরকম ভিডিও আপনার হোমে চলে এসেছে বা সাজেস্ট করছে। আবার যে টাইপের ভিডিও আপনি ইউটিউবে দেখেন ঠিক ঐ টাইপ বা ক্যাটাগরির ভিডিও বেশি দেখার বা Recommended করে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি

যখন অনলাইনে কিছু কিনতেছেন, যেমন ধরেন আপনি একটি ক্যামেরা মডেল দেখছেন ঠিক ঐ ব্রাণ্ডের সিমিলার কিছু ক্যামেরা আপনাকে এড হিসেবে ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি মিডিয়া দেখাবে, যে টাইপের প্রোডাক্ট আপনি ওয়েবসাইটে খুজছেন ঠিক একই টাইপের প্রোডাক্ট আপনাকে এড হিসাবে দেখাবে।

কারণ আপনার ব্রাউজার হিস্টোরি ও ক্যাশ সেগুলো ট্রাক হয় আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স এর মাধ্যমে। এই প্রসেসকে মেশিন লার্নিংও বলে। এই ধরনের কম্পিউটার মেমোরি আমাদের অনেক কাজে আসে।

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স

আমি সবচেয়ে ভয়ানক আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স বা AI কথা বলব। একটা ল আছে যেটাকে বলে MOORE’S Law । এই ল অঞ্চলে যে প্রতি এক বা দুই বছরে দুনিয়াতে যতগুলো ট্রানজিস্টার আছে কম্পিউটার পার্টসে সেগুলো ডাবল হয়ে যাবে।

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে আর্টিফিসিয়াল

যখন তখন প্রথম কম্পিউটার বানানো হয়েছে, তখন থেকে আজ পর্যন্ত এই ল সঠিক হয়ে আসছে। পৃথিবীর সর্বনাশ করা আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স আমাদের কাছে নেই কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেন আগামী ২৫ বছরের মধ্যে আমাদের দুনিয়াতে তাণ্ডব চালাবে।

অনেক গবেষক বলে যে ২০ বছরের মাঝে এটি আসবে। আমি এই ভয়ানক ইনটেলিজেন্সের ব্যাপারেই কথা বলছি। সবচেয়ে ইনটেলিজেন্স মানুষ যারা দুনিয়াতে টেকনোলজি শিফট করছে আর আমাদের ভবিষ্যতের দুনিয়া নিয়ে ভাবছে এরকম গবেষকরা বলেছেন – আর্টিফিসিয়াল বা AI আমাদের দুনিয়ার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তির অভিশাপ হবে।

আর আমাদের সিভিলাইজেশনের জন্যে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে। স্যার স্টিফেন হকিং একবার না বরং কয়েকবার তার জীবনে বলেছেন যে AI could end mankind.

যারা AI কে ভালভাবে বোঝে তাদের মাঝে অনেকে একথা বলেছেন যে আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স আমাদের পৃথিবীর সবশেষে আবিষ্কার হবে যেটা দিয়ে আমাদের পৃথিবী শেষ হবে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর খারাপ দিক

যদি বিজ্ঞানীকে কম্পিউটারের ব্রেন বা আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কোনভাবে হারিয়ে ফেলতে হবে। আমাদের পৃথিবীতে একটি লড়াই হবে যেটা মানুষ এবং কম্পিউটারের মাঝে। এমন একটি লড়াই যেখানে মানুষ জিততে পারবে না। কেন পারবে না তার কারণ হলো কম্পিউটার যখন নিজে নিজে প্রোগ্রামিং ভাষা বানাতে পারবে এবং নিজেকে ডেভেলপ করতে পারবে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর খারাপ দিক

তখন অনেকগুলো কম্পিউটারের AI মিলে কয়েক গুণ বেশি ইনটেলিজেন্স হবে যেখানে মানুষ পাত্তাই পাবে না। কম্পিউটার এটা করতে সক্ষম হলে এটা খুবই চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

আমর যতই চেষ্টা করি না কেন এই রোবটসকে হারাতে আমরা কখনোই পারব না। কারণ রোবটের মাইন্ড পাওয়ার আনলিমিটেড হয়ে যাবে। এটা এমন হবে যেমন একটি পিপড়া মানুষের সাথে লড়ছে। এখানে পিপড়া হলো আমরা মানুষ। আর এই মানুষ হল রোবট যদি তুলনা করি। পৃথিবীতে যত প্রাণী বাস করছে তার মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী আমরা মানুষ। এজন্য মানুষ বছর ধরে পৃথিবী রাজ করছে।

মানুষ বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট

তবে আজকে আপনাদের একটি ফ্যাক্ট বলব যে মানুষ এবং এপকে যদি তুলনা করি তবে এটা জেনে অবাক হবে যে এরা আসলে মানুষের বুদ্ধির অনেক কাছে। এপের ইনটেলিজেন্স ৫৫ হলে মানুষের ৬০। তার মানে মানুষ এবং এপের পার্থক্য খুব কমই। সামান্য পার্থক্যের জন্য আমরা সুপিরিয়ার।

মানুষ বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট

এত এত বড় ইমারত দাড় করিয়েছি, একে অপরের সাথে কথা বলি। কিন্তু বানর ও এপস ইনটেলিজেন্স হয়েও তেমন কিছুই করতে পারেনি তাদের জাতির জন্য। যদি পৃথিবীর সব জীবের মধ্যে বুদ্ধি মাপি তাহলে সবচেয়ে কম 1 পয়েন্ট পাবে ইঁদুর।

ডলফিন 4, শিম্পানজি পাবে ৭ এবং মানুষ যার বুদ্ধি শিম্পানজির একদম কাছে যে পাবে ৯। এটা শুনে হয়তো আপনার কানে ধোয়া বেরুবে। কিন্তু এই পয়েন্ট লিস্টে যদি আর্টিফিসিয়াল ডেভেলপ হয় তবে এটি আরামে 1000 পয়েন্ট পেয়ে যাবে। মানুষের ব্রেন এত শক্তিশালী হয়েও শুধু ৭ পয়েন্ট পেয়েছে, কারণ মানুষের ব্রেনের সাইজ লিমিটেড যা এই খুলির মাঝে সীমাবদ্ধ।

ব্রেনের মাঝে নিউরণ লিমিটেড মাত্রায় আসতে পারে। কিন্তু একজন আর্টিফিসিয়াল রোবটের ব্রেনে এরকম কোন লিমিট থাকবে না। কারণ কম্পিউটার নিজের মধ্যে আনলিমিটেড স্প্যান করতে পারে। বুদ্ধি তো নিউরণের দিয়ে বলে কিন্তু কম্পিউটার ব্রেন পাওয়ার দিয়ে চলায় আনলিমিটেড কনজিউম করতে পারে।

এ আই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশিষ্ট্য

আজ থেকে ১০০০ বছর পর যখন প্রসেসরের ক্ষমতা কয়েক হাজার গুণ বেড়ে যাবে তখন তা অনেক বেশি কম্পিউটিং পাওয়ার এক্সেস করতে পারবে। অনেক বেশি মানে অনেক বেশি, ভার্চুয়ালি আনলিমিটেড। কম্পিউটার ব্রেন যতবেশি ইচ্ছা পাওয়ার নিজের মধ্যে নিতে পারবে।

আর আপনি তো জানেনই কম্পিউটারের ভিতর কমিউনিকেশন লাইটের গতিতে হয় যা ৩ লাখ কিলোমিটার পার সেকেণ্ড। আর মানুষের ব্রেণের কমিউনিকেশন স্পিড মাত্র ৪০০ কিলোমিটার পার আওয়ার যা কম্পিউটার কমিউনিকেশন স্পিডের কাছে কিছুই না।

এই স্পিডে যদি কম্পিউটার বা রোবট নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারে। তাহলে সে ইচ্ছামত যা খুশি করতে পারে। আর যা চাবে তা বানাবে। ফিউচারের কথা তো বললাম তবে এরকম ক্ষমতাধর ইনটেলিজেন্স এখন বানানো হয়নি। তবে মনোযোগ দিয়ে শুনেন যদি কম্পিউতারের ব্রেন মানুষের চাইতে ১% ডেভেলপ হয়। তবে এটাকে বলা হবে Singularity।

এটার মধ্য দিয়ে এই কাহিনীর শুরু হবে যেখানে মানুষের কাহিনী শেষ হবে। এখন পর্যন্ত যে AI আছে এগুলো একটা লিমিটেশন বা বাউন্ডারির মাঝে কাজ করছে। যেমন সার্চ করা, আপনার কথা শোনা বা আপনার পরবর্তীতে কি কিনতে হবে তা রেকমেন্ড করা। কিন্তু AI ধীরে ধীরে প্রবল মাত্রায় বিকশিত হচ্ছে। বিকশিত মানে আমরা মানুষরাই একে ডেভেলপ করছি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহার

আপনার মনে হয়ত প্রশ্ন আসছে এই টাইপের AI আমাদের পৃথিবীতে কবে আসবে? গবেষকরা বলছেন এটা ২০৪০ সালে বা ২০৩০ সালেই চলে আসবে। আপনি হয়তো ভাবছেন এত দ্রুত এটি কিভাবে ডেভেলপ হয়ে যাবে? তাহলে আপনি এই চার্টকে দেখেন, কি পরিমাণ ডেভেলপ হচ্ছে যে কার্ভ একেবারে খাড়া হয়ে উঠেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহার

পুরো পৃথিবী ইতিহাসে আমরা প্রযুক্তির যত উন্নয়ন করেছি তা রিসেন্ট ২৫ বছরের মধ্যে হয়েছে। তাই গবেষকদের মধ্যে এই Singularity হবেই হবে। তবে এক্সজ্যাকটলি কি হবে এটা হলে তা মানুষ পরিষ্কার ভাবে বলতে পারবে না।

তবে এটা অনেক ইন্টারেস্টিং একটি বিষয় হবে মানুষের কাছে। কম্পিউতার নিজস্ব ব্রেন বা আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স যখন মানুষের ব্রেন থেকে বেশি হয়ে যাবে তখন ২টি বিষয় ঘটবে।

Case 1: পৃথিবী থেকে মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

অথবা, Case 2: মানুষ অনেক বছর ধরে বেঁচে থাকতে পারবে।

এখন প্রশ্ন হলে ইনটেলিজেন্স যখন বাস্তবায়ন হবে পুরোপুরি তখন ভাল কাজের জন্য হবে নাকি খারাপ কাজের জন্য তা আমরা জানি না। তবে AI রোবট যদি নিজেদের মধ্যে ইমোশন ডেভলপ করে নেও। তবে Case 2 হবে মানে তারা আমাদের সাহায্য করবে, ভালবাসবে।

কম্পিউটার ব্রেন দিয়ে রোবটিক মানুষ

মানুষের মাঝে যেমন ভালো-মন্দ আছে রোবটের মাঝেও এরকমটা থাকবে। আজকের পৃথিবী ভালো মানুষ বেশি আছে বলে টিকে আছে কিন্তু কাল রোবটের দুনিয়ার কি হবে তা আসলেই বোঝা যাবে। কোন কিছু আবিষ্কার ইনটেলিজেন্স এর মাধ্যমে হয়। যদি বিজ্ঞানীদের বলা হয় আপনারা অমর হওয়ার জন্য কিছু লিকুয়েড আবিষ্কার করেন।

তাহলে তারা এটি করতে পারবে না। কারণ এটি প্রকৃতির বিরুদ্ধে। আর বুদ্ধি মানুষের মাঝে লিমিটেড। তাই অমর হওয়ার ঔষধ আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের মধ্যেই সম্ভব।

তবে যত যাই হোক না কেন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স যে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর সর্বকালের সেরা ইনভেনশন হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। হয়তো মানুষ এটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এমন কিছু আবিষ্কার করবে যাতে করে সব AI নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স

আপনার মতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স আমাদের ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য কেমন হবে তা কমেন্ট করে জানান। ভিডিওটি ভাল লাগলে লাইক দিয়ে আমাদের অনুপ্রেরণা দিবেন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে যান। দেখা হবে, নতুন কোন ভিডিওতে নতুন কোন টপিকসে। ততদিন সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

আরো পড়ুন- ব্রেন ট্রান্সপ্লান্ট এর মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করতে চলেছে মানুষ

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!