পড়াশোনা টিপস লেখাপড়া

পড়ালেখায় মন না বসলে বাদ দাও এখনি | Motivation For Students

পড়ালেখায় মন

পড়ালেখায় মন বসে না। পড়াশোনা করতে আর ভাল লাগে না। আচ্ছা পড়াশোনা করতে কার ভালো লাগে? সবাইতো কোনো না কোনো স্বার্থের জন্য পড়াশোনা করে। কারো চাকুরী করার ইচ্ছা, কারো খ্যাতির লোভ, সমাজে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা আর চাহিদা পূরণের জন্যই তো আমরা পড়ি, রাতে পড়ি, দিনে পড়ি, শুয়ে পড়ি, দাঁড়ায় পড়ি, ঘুমায় ঘুমায় পড়ি আরো কতভাবেই না পড়ি। তবুও পড়তেই হবে। কিন্তু পড়াশোনা তো বিষ লাগে, ভালো লাগে না একদম।

পড়ালেখা করে কি হবে ?

তাহলে পড়ো না, পড়াশোনা ছেড়ে দাও। আমি আবারো বলছি জোড় করে পড়ো না, পড়ালেখা বাদ দাও। এতে পাশের বাসার আন্টি, বাবার বন্ধু, তোমার বন্ধুরা তোমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে, টিটকারী মারবে। সহ্য করতে পারবে তো? জানি পারবে না। কেন? এখনো তো পড়াশোনা করছ, তবুও রেজাল্ট খারাপ করে নানান কথা শুনছ। এখন কিভাবে সহ্য করছ? নাকি সহ্য করার অভিনয় করছ? এই তুমি অভিনয় করতে করতে তুমি নিজেকেই এখন চিনতে পারো না। তুমি তোমাকে হারিয়ে ফেলেছ।

তোমার শখ, আহ্লাদ, তোমার প্রতিভা বিসর্জন দিচ্ছ। কিন্তু কেন? ওহ! বাবা মায়ের ভয়ে। সমাজে চক্ষুলজ্জার জন্য। বাহ তুমি তো মহান। তোমার সহ্য ক্ষমতার জন্য তো নোবেল দেয়া দরকার। তুমি তো নিজেকে অনেক সাহসী ভাব, তাই না! তাহলে পড়ালেখা বাদ দাও, দেখি তোমার কেমন সাহস? কি পারবে না তো! জানি ভয় হয়। ভবিষ্যত আবার অন্ধকার হবে না তো। বাবা মা বাড়ি থেকে বের করে দিবে না তো? আরো কত রকমের লজ্জা আর ভয় তুমি লুকিয়ে সাহস দেখিয়ে বেড়াচ্ছ। বাহ! তুমি তো ভাল অভিনয় পার।

পড়ালেখা কেন করব ?

আচ্ছা তুমি কে? তোমার ট্যালেন্ট কি? তোমার কি করতে ভাল লাগে? কি হতে চাও ভবিষ্যতে? এগুলো প্রশ্নের উত্তর জান তো। আমার মনে হয় তোমার বেশিরভাগই এই প্রশ্নের উভয়গুলো জানো না। কারণ জন্মের পর থেকে আমাদের প্রতিযোগীতা শেখানো হয়েছে, নিজের আসল পরিচয় শেখানো হয়নি। ছোট থেকে এত বকাঝকা, মার খাচ্ছ তবুও পড়াশোনায় ভাল করতে পারছ না, পড়তে ভাল লাগছে না।

কারণ তুমি পড়ালেখাকেই জীবন বেছে নিয়েছ। এজন্য পড়ালেখার প্রতি ভয় বেশি, হারানোর ভয়, না পাওয়ার ভয়, ব্যর্থতার ভয় আরো কত কি? যখন মাঝ নদীতে পড়ে যাবে আর দেখবে একটি মাত্র ভেলা তোমার কাছে। তাহলে তীরে না আসা পর্যন্ত তুমি ভয়ে থাকবে, সাতারও ঠিকমত কাটতে পারবে না, যদি এই একটিমাত্র ভেলা ডুবে যায় কিংবা হারিয়ে যায়। কিন্তু অনেকগুলো ভেলা তোমার সামনে থাকলে তুমি খুব সহজে যে কোন ভেলায় চড়ে তীরে আসতে পারবে। কারণ তোমার হারানোর ভয় নেই, অনেকগুলো ভেলা তোমার সামনে।

পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার টিপস

পড়াশোনাও ঠিক তোমার কাছে একটি ভেলার মত। তুমি ধরে নিয়েছ এটা হারালে তোমার জীবন শেষ। তাই ভয়ে ঠিকমত পড়ালেখা করতে পারছ না। কিন্তু তুমি যদি পড়াশোনার পাশাপাশি আরো রাস্তা ঠিক করে রাখতে পার, তাহলে পড়াশোনা তোমার কাছে আর চাপ মনে হবে না, ভয় লাগবে না। ঠিক তখনি তুমি পড়াশোনায় মনযোগী হতে পারবে, ভালবাসতে পারবে, পড়া মনেও থাকবে। তোমার এই আরামপ্রিয় ব্রেন চাপ আর ভয় নিয়ে কোনকিছু করতে চায় না, সে স্বাধীনতা চায়।

তাই প্রত্যেকে পড়াশোনা ছাড়াও কিভাবে অন্য কিছু দিয়ে জীবন চালানো যায় তা খুঁজে বের কর। হতে পার তুমি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী কিংবা ফ্রিল্যান্সার। তুমি চাইলে অনেক কিছুই হতে পার, তোমার মাঝে সেই ক্ষমতাটুকু আছে। শুধু ভয়কে জয় করো। পড়াশোনা করেও তুমি টাকাপয়সা, খ্যাতি পেতে পার আবার না করেও পেতে পার।

কিন্তু পড়াশোনা তোমার চিন্তার দুয়ার খুলে দিবে, সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাবে। তোমাকে ভাবতে শেখাবে, নতুন নতুন আইডিয়া দেবে, যদি তুমি বুঝে বুঝে পড়, ভাল লাগা থেকে পড়, কিছু শেখার জন্য পড়। কোন পড়াই অযথা না, সবটাই জীবনে চলতে ফিরতে কোন না কোন সময় লাগে।

পড়তে মন চায় না

তুমি চাকুরী করবে না, নিজে থেকে কিছু করতে চাও। এটা খুবই ভাল কথা। কিন্তু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য হলেও তোমাকে পড়তে হবে। শুনতে খারাপ লাগলেও এই সমাজে সবাই ডিগ্রী দিয়ে যোগ্যতা বিচার করে। তাই কারো অপমান তুচ্ছ তাচ্ছিল্য যেহেতু তুমি সহ্য করতে পারবে না যেহেতু পড়াশোনা তো তোমাকে করতেই হবে।

নিজের সম্মানের খাতিরে, অর্থের লোভে কিংবা এই সমাজে মাথা উচু করে দাঁড়াতে চাইলে পড়াশোনা করবে কিনা তা নিজেই ভেবে দেখ। পড়ালেখায় মন বসানো সময়ের ব্যাপার যদি তুমি বিষয়টা ভালভাবে বুঝ। আমি শুধু একটা কথাই বলব, যা করবা নিজের ভাললাগা থেকে করবা, কিছু শেখার জন্য, জানার জন্য করবা। আরেকটা কথা মাথায় রাখবা- ” কষ্ট না করিলে কেষ্ট মেলে না।”

পুরো লেখাটা ভিডিওতে দেখতে নিচে ক্লিক করুন-

আরও পড়ুন- পড়া মনে রাখা ও মুখস্ত করার অসাধারণ কিছু কৌশল

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!